ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লেবাননে শিক্ষাবঞ্চিত এক লাখ লেবানিজ শিশু: ইউনিসেফ

লেবাননে শিক্ষাবঞ্চিত এক লাখ লেবানিজ শিশু: ইউনিসেফ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে লেবাননের অন্তত এক লাখ শিশু আগামী শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবে না বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

লেবাননের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে ইউনিসেফ জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় দেশটির ৩৪০টি সরকারি, বেসরকারি ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

জরিপ অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, বেকা উপত্যকা, বালবেক-হারমেল, রাজধানী বৈরুত এবং মাউন্ট লেবানন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, একটি স্কুল শুধু শিক্ষাদানের স্থান নয়, বরং এটি শিশুদের জন্য নিরাপত্তা, মানসিক পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে অর্থায়ন প্রয়োজন।

ইউনিসেফের মতে, দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, কোনো শিশু যত বেশি সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে, তার শেখার ক্ষতি এবং শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। তাই সংকট পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্কুল পুনর্বাসন মানে শুধু ভবন মেরামত নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা, আশাবাদ এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করা।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, লেবাননের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

ট্যাগ : লেবানন মধ্যপ্রাচ্য ইসরায়েল ইউনিসেফ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


লেবাননে শিক্ষাবঞ্চিত এক লাখ লেবানিজ শিশু: ইউনিসেফ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে লেবাননের অন্তত এক লাখ শিশু আগামী শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবে না বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

লেবাননের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে ইউনিসেফ জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় দেশটির ৩৪০টি সরকারি, বেসরকারি ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

জরিপ অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, বেকা উপত্যকা, বালবেক-হারমেল, রাজধানী বৈরুত এবং মাউন্ট লেবানন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, একটি স্কুল শুধু শিক্ষাদানের স্থান নয়, বরং এটি শিশুদের জন্য নিরাপত্তা, মানসিক পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে অর্থায়ন প্রয়োজন।

ইউনিসেফের মতে, দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে ঝরে পড়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, কোনো শিশু যত বেশি সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে, তার শেখার ক্ষতি এবং শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। তাই সংকট পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্কুল পুনর্বাসন মানে শুধু ভবন মেরামত নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা, আশাবাদ এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করা।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, লেবাননের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ