রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক বেঞ্চে আবেদন করে জামিন নেওয়ার ঘটনায় তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও তিন হলফকারীসহ মোট ১১ জনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ লিখিত আদেশে এসব নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) আদেশের অনুলিপি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসে।
আদালত মনে করেন, একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন বেঞ্চে একাধিক আবেদন করা এবং অন্য বেঞ্চ থেকে জামিন পাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখা হলে তা বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের জন্য উদ্বেগজনক।
লিখিত আদেশে হাইকোর্ট বলেন, একই আসামিদের পক্ষে একই আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন দায়ের করা, বিশেষ করে অন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে ইতোমধ্যে জামিন আদায় করা হয়ে থাকলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা ও আচরণের যথার্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, অন্য আবেদনগুলো বিচারাধীন থাকার বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়ে থাকলে তা ন্যায়বিচারের মৌলিক ভিত্তির পরিপন্থি। বিচারপ্রার্থীদের আদালতের কাছে আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করা আবশ্যক।
একই বিষয়ে অন্য বেঞ্চে আবেদন থাকার তথ্য গোপন করে সমান্তরালভাবে একাধিক আবেদন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন আদালত। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করে বিচারিক আদেশ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট আসামি, আবেদনগুলোর হলফকারী এবং তাঁদের আইনজীবীদের ভূমিকা বিচারিক পর্যালোচনার দাবি রাখে।
১১ জনের কাছে রুলের জবাব তলব
ঘটনাটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আসামি মিল্লাত ওরফে মিল্লাত হোসেন, লিপি ওরফে লিপি আক্তার, শরীফ ওরফে মো. শরীফ, টনিক ওরফে আনোয়ার হোসেন টনিক এবং জনি ওরফে আরিফুর রহমান জনির কাছে রুলের জবাব চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জামিন আবেদনগুলোর হলফকারী মোহাম্মদ সেলিম রেজা, মো. মোশাররফ হোসেন ও রিপন আহমেদ এবং আইনজীবী আন্না খাতুন, মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন ও এস. এম. আবদুল বাতেন শাকিলকেও ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রুলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মামলায় নতুন কোনো জামিন আবেদন গ্রহণ না করতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অধীন সংশ্লিষ্ট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে (সিএমএম) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি তিন আইনজীবীকে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাখ্যা বা জবাব ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৫ দিনের জন্য তাঁদের হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করা থেকেও বিরত রাখা হয়েছে।
আদালত আরও জানিয়েছেন, গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ যে জামিনের আদেশ দিয়েছিলেন, সেটি এখনো সংশ্লিষ্ট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়নি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই আদেশ পাঠানো থেকে হাইকোর্টের ক্রিমিনাল সেকশনের অফিসকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার একই মামলায় তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালতের অভিন্ন আদেশের বিপরীতে তিনবার আবেদন করে জামিন নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় ১১ জনকে শোকজ করেছিলেন হাইকোর্ট। তাঁদের ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছিল। ওই ১১ জনের মধ্যে ছিলেন পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী এবং মামলার তিনজন তদবিরকারক।














মন্তব্যসমূহ