ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিবর্তে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিতে চান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এ জন্য তাঁর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। তবে আইনজীবীর সময়ের আবেদনে শুনানি পিছিয়ে আগামী মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (৮ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন মাসুদ উদ্দিন। রোববার ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় মামলাটি দ্বিতীয় স্থানে ছিল।
এদিন মাসুদ উদ্দিনের পক্ষে শুনানি পেছানোর আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী লিটন আহমেদ। তিনি আদালতকে জানান, ঢাকা মেডিকেল থেকে তাঁর মক্কেলকে সিএমএইচে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে। রোববার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের একজন আইনজীবী হাসপাতালে থাকায় তাঁরা আরও সময় চান।
আইনজীবীর আবেদনে প্রসিকিউশন আপত্তি না জানানোয় শুনানির জন্য ১০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে একই মামলায় মাসুদ উদ্দিনের পাশাপাশি গ্রেপ্তার রয়েছেন মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর্বে মাসুদ উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন মোজাফফর হোসেন। তদন্তে উভয়ের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
এর আগে ২১ জুলাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর হোসেনকে ফেনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন করে প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত।














মন্তব্যসমূহ