২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোমাঞ্চ যেন থামছেই না। হাতেগোনা কয়েকটি ম্যাচ বাদ দিলে বেশির ভাগ লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হচ্ছে শেষ মুহূর্তে এসে। টরন্টোতে বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও দেখা গেল একই নাটক। শেষ হাসি হাসল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গনসালো রামোসদের পর্তুগাল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় ছিল। এরপর যোগ করা হয় ১০ মিনিট। সেই যোগ করা সময়েই ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় পর্তুগাল। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের ক্রসে দারুণ হেডে জয়সূচক গোল করেন রামোস। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পর্তুগাল শিবির।
ম্যাচ শেষে রামোস বলেন, ‘পর্তুগাল মানেই আমাদের পরিচয়। আমরা সব সময় জয়ের জন্য খেলি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখি। কারণ, আমরা কখনোই সত্যিকার অর্থে শেষ হয়ে যাই না।’
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচে প্রথম গোলটি করে ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে জোসিপ স্তানিসিচের তৈরি করা আক্রমণ থেকে ইভান পেরিসিচ জোরাল শটে বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত গোল পাচ্ছিল না পর্তুগাল।
৫৮ মিনিটে লেয়াওয়ের দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পর রোনালদো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। অবশেষে ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরে পর্তুগাল। রেনাতো ভেইগাকে ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাশিচ চেপে ধরলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে পর্তুগালকে ম্যাচে ফেরান রোনালদো।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘তারা গোল করার পর আমরা কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম এবং একটু বিচলিতও হয়েছিলাম। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করার পর আমরা মানসিকভাবে চাঙা হয়ে উঠি। এরপর ম্যাচটা আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। তারপরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এটাই প্রতিযোগিতার বাস্তবতা। আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।’
বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়া রোনালদোকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনাও কম হয়নি। অফফর্মের কারণে অনেকেই তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বড় মঞ্চে চ্যাম্পিয়নরা ফিরতে জানেন। খাদের কিনারা থেকে এর আগেও বহুবার দলকে বাঁচিয়েছেন রোনালদো। টরন্টোতেও পর্তুগালের প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠলেন তিনি।
রোনালদোর মতে, বিশ্বকাপ জিততে হলে নকআউট পর্বের চাপ সামলানোর মানসিকতা থাকতে হয়। পর্তুগিজ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। অধিনায়ক হিসেবে আমি এরকম মুহূর্তের মধ্য দিয়ে আগেও গিয়েছি। আমি বলেছিলাম, আমাদের কষ্ট সহ্য করতে জানতে হবে। এত বড় একটি প্রতিযোগিতা জিততে হলে কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে।’
শেষ ষোলোতে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ এখন স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। অন্য গোলটি করেন পেদ্রো পোরো।
সব মিলিয়ে শেষ ষোলোতে অপেক্ষা করছে আরেকটি মহারণ। একদিকে রোনালদোর পর্তুগাল, অন্যদিকে ছন্দে থাকা স্পেন। ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে শুরু হবে স্পেন-পর্তুগাল লড়াই।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ