টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি। তবে মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি দেশটির ফুটবল সংস্কৃতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্যর্থতার পর একজন খেলোয়াড়কে সামনে এনে দায় চাপানোর প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর তুর্কি বংশোদ্ভূত মেসুত ওজিল তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। সেই ঘটনার স্মৃতি এবার আবার সামনে এসেছে।
এবার প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন কুর্দি ও ইয়াজিদি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড দেনিজ উনদাভকে। নাগেলসমানের মতে, ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া একটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন উনদাভ।
তবে জার্মান সমর্থকদের বড় একটি অংশ কোচের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, দলের ব্যর্থতার জন্য একজন খেলোয়াড়কে দায়ী না করে কোচের কৌশল, দল নির্বাচন এবং পুরো পরিকল্পনা নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত।
বিশ্বকাপের শুরুতে বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন উনদাভ। সেই গোল জার্মানিকে গ্রুপ পর্ব পার হতে সাহায্য করেছিল। তাই বিদায়ের দায় একা তার ওপর চাপানো অন্যায় বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মান ফুটবলের সংকট শুধু একটি ম্যাচ বা একটি মিস করা সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমস্যার শেকড় আরও গভীরে। একসময় যুব উন্নয়ন, আধুনিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল জার্মানি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই কাঠামো নতুন প্রতিভা তুলে আনা ও তাদের বিকাশে আগের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
তাদের মতে, জার্মানিকে আবার সাফল্যের পথে ফিরতে হলে শুধু খেলোয়াড় বদল করলেই হবে না। প্রয়োজন হবে পুরো ফুটবল কাঠামো, প্রশিক্ষণব্যবস্থা, প্রতিভা বাছাই এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন।
ব্যর্থতার পর একজন খেলোয়াড়কে বলির পাঁঠা বানানোর বদলে জার্মান ফুটবলের আসল দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্যসমূহ