ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।
খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ায় তাঁর মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ না করে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, ইসলামে সাধারণত রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ রাখা যেতে পারে।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইরানের রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জনগণকে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলে তেহরান সতর্ক করেছে।
খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির ভেতরে শোক, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা একসঙ্গে চলছে। অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিরা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীন ও ভারত ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ