সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝআকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এটি ভূপাতিত করার তথ্য জানান জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। তবে এ ঘটনায় হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা চলার মধ্যেই নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে এল। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
এর আগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানের সময় হুতিরা একাধিকবার জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে তাদের অভিযানে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। বৃহস্পতিবার সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে ইয়ানবু গভর্নরেটে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।’
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দর। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বন্দরটি এবং পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে রিয়াদ বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির অন্যান্য এলাকা দখলে নেয় ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি














মন্তব্যসমূহ