ঢাকা    সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সানায় ৩৩ জন নিহতের পর সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের সানায় বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হওয়ার খবরের পর সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।তবে এই ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানানো হয়নি।এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) ইয়েমেনের সানা প্রদেশের আল-শারিয়া গ্রামে বিমান হামলা চালানো হয়।হুতি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ওই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।হুতিদের অভিযোগ, প্রথম দফার হামলার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চলার সময় আরও দুই দফা বিমান হামলা চালানো হয়।এসব হামলায় উদ্ধারকর্মীরাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।তবে হামলা ও হতাহতের এসব অভিযোগের বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সানার ঘটনার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেয় হুতিরা।গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে ছয়টি বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদি আরামকোর তেল মজুত ট্যাংক ও একটি ডিস্টিলেশন টাওয়ার।এ ছাড়া খুরাইসের আরামকো স্থাপনা, দাওয়াদমি এলাকার জ্বালানি অবকাঠামো এবং সীমান্তবর্তী সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেন তিনি।ইয়াহিয়া সারির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি রিয়াদের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় অভিযানে লক্ষ্য করা হয় খুরাইসের আরামকো স্থাপনাকে।এসব অভিযান সফল হয়েছে এবং সৌদি সেনাদের হতাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছে হুতিরা।তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের এসব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।হুতিদের হামলার দাবির মধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।এরপর রোববার ভোরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ঘোষণা আসে।জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই তথ্য জানান।তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং প্রতিহত করার পর কোনো ধ্বংসাবশেষ কোথায় পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য কিছু সেনাসদস্য পাঠিয়েছে সিরিয়া।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার কয়েক ডজন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন।সেখানে তাঁরা সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছেন।তবে ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সিরিয়া।দামেস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সঙ্গে বর্তমান সামরিক সহযোগিতা প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্যেই সীমিত রয়েছে।সূত্র : রয়টার্স

সানায় ৩৩ জন নিহতের পর সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা