ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এলডিসি উত্তরণে বাড়তি সময় চাওয়া বিলম্ব নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণে বাড়তি সময় চাওয়া বিলম্ব নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং টেকসই, স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেমিনারটির আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাড়তি সময় চাইছে কোনো বিলম্বের জন্য নয়। বরং অর্থনীতিকে আরও প্রস্তুত, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিশীল করে একটি কার্যকর উত্তরণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাছে জমা দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে প্রস্তাবটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী এবং অংশীজনদের বাংলাদেশের প্রস্তুতি, অগ্রগতি ও প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বর্তমান সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করে। কারণ, প্রস্তুতিকালীন সময়ে বাংলাদেশ একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে। এ কারণে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা।

জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। তাই বাংলাদেশকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় থাকা জটিলতা ও পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা করার সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারে জানানো হয়, জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং সরকারি-বেসরকারি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি ও দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে কাজ করছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেয়াদ বাড়ানো এবং উন্নয়ন অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা জরুরি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং বাড়তি প্রস্তুতিকাল কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের গতি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

এছাড়া ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।

সেমিনারে সুইডেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও উন্নয়ন সহযোগীরা টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতে সংস্কার এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

সেমিনারে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ট্যাগ : জাতিসংঘ বাণিজ্যমন্ত্রী বিনিয়োগ এলডিসি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


এলডিসি উত্তরণে বাড়তি সময় চাওয়া বিলম্ব নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং টেকসই, স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেমিনারটির আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাড়তি সময় চাইছে কোনো বিলম্বের জন্য নয়। বরং অর্থনীতিকে আরও প্রস্তুত, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিশীল করে একটি কার্যকর উত্তরণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাছে জমা দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে প্রস্তাবটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী এবং অংশীজনদের বাংলাদেশের প্রস্তুতি, অগ্রগতি ও প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বর্তমান সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করে। কারণ, প্রস্তুতিকালীন সময়ে বাংলাদেশ একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে। এ কারণে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা।

জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। তাই বাংলাদেশকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় থাকা জটিলতা ও পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা করার সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারে জানানো হয়, জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং সরকারি-বেসরকারি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি ও দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে কাজ করছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেয়াদ বাড়ানো এবং উন্নয়ন অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা জরুরি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং বাড়তি প্রস্তুতিকাল কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের গতি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

এছাড়া ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।

সেমিনারে সুইডেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও উন্নয়ন সহযোগীরা টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতে সংস্কার এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

সেমিনারে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ