কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ বৈঠক শেষ হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত দুই সপ্তাহ আগে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং কাতারে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এগুলো অন্তর্বর্তী চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এবং সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলের ভিত্তিতে আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। আলোচনাগুলো আগামী দিনগুলোতেও চলবে।
কাতার জানিয়েছে, ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। তার দাফন ৯ জুলাই হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং বৈঠকগুলো ভালো হয়েছে।
তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দোহার বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়নি। বৈঠকটি মূলত হরমুজ প্রণালি, নৌ চলাচল এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের মতো কারিগরি বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী ধাপে আলোচনায় আসবে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বৈঠক শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মতপার্থক্য কমাতে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে অঞ্চলটিতে পাঠানো হলেও দোহার এই কারিগরি বৈঠকে তারা উপস্থিত ছিলেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, দোহার বৈঠক সরাসরি বড় রাজনৈতিক সমাধান না আনলেও অন্তর্বর্তী সমঝোতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের সীমাবদ্ধ অর্থ ব্যবহারের প্রশ্নে আলোচনা চলমান থাকা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ