মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে সাগাইং অঞ্চলে জান্তাবিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
রাখাইনের বুথিডং উপজেলায় যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বোমা হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে জান্তা বাহিনী। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুথিডং ও মংডু এলাকায় জান্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা জোরদার করেছে। কয়েকটি হামলায় শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহরে জান্তাবিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্সের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পিপলস সিকিউরিটি ফোর্সের কয়েকটি ক্যাম্পে আকস্মিক অভিযানের পর এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়াতে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমার নাগরিক থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ, সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবিকার সংকট মিয়ানমারের মানুষকে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাতজনিত প্রাণহানি এক লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে খাদ্যসংকটও তীব্র হচ্ছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই সংকট প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও আরও চাপ তৈরি করবে।
মন্তব্যসমূহ