ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ২,২৯৫, খাদ্য-পানির তীব্র সংকট

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ২,২৯৫, খাদ্য-পানির তীব্র সংকট
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এর মধ্যেই প্রাণে বেঁচে যাওয়া হাজারো মানুষ খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এত প্রাণহানিতে দেশের আত্মা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে।

রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুয়াইরার অধিকাংশ ধসে পড়া ভবনে ‘ডি’ চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্পেনের একটি উদ্ধারকারী দলের সমন্বয়কারী হাভিয়ের রোদেস জানান, যেখানে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেখানে উদ্ধারকারীরা সময় নষ্ট করছেন না। তার দলের প্রশিক্ষিত কুকুরও ধ্বংসস্তূপে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি।

তবে ভয়াবহতার মধ্যেও কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে আটকে পড়া মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, প্রায় ১৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তেলসমৃদ্ধ দেশটির বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন আরও বড় চাপে পড়েছে।

দুর্যোগের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল এলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

লা গুয়াইরার বাসিন্দা দানিয়েলা আরমাস বলেন, ত্রাণ দেওয়া হলেও খাবারের জন্য মানুষকে প্রায় লড়াই করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

এদিকে চুরি ও লুটপাটের ঘটনাও বেড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান জিনিস চুরির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ভেনেজুয়েলা প্রধান লিয়া পোজ্জিও বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ত্রাণের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আগামী তিন মাসে পাঁচ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে ৫ কোটি ডলার জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা আগামী ছয় মাসে ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের তহবিল চেয়েছে।

নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। লা গুয়াইরার বাসিন্দা হেলেন গুয়েদেজ বলেন, জীবিত না পেলেও অন্তত প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার করে সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে চান তারা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগ : ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলা লা গুয়াইরা কারাকাস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ২,২৯৫, খাদ্য-পানির তীব্র সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এর মধ্যেই প্রাণে বেঁচে যাওয়া হাজারো মানুষ খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এত প্রাণহানিতে দেশের আত্মা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে।

রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুয়াইরার অধিকাংশ ধসে পড়া ভবনে ‘ডি’ চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্পেনের একটি উদ্ধারকারী দলের সমন্বয়কারী হাভিয়ের রোদেস জানান, যেখানে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেখানে উদ্ধারকারীরা সময় নষ্ট করছেন না। তার দলের প্রশিক্ষিত কুকুরও ধ্বংসস্তূপে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি।

তবে ভয়াবহতার মধ্যেও কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে আটকে পড়া মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, প্রায় ১৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তেলসমৃদ্ধ দেশটির বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন আরও বড় চাপে পড়েছে।

দুর্যোগের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল এলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

লা গুয়াইরার বাসিন্দা দানিয়েলা আরমাস বলেন, ত্রাণ দেওয়া হলেও খাবারের জন্য মানুষকে প্রায় লড়াই করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

এদিকে চুরি ও লুটপাটের ঘটনাও বেড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান জিনিস চুরির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ভেনেজুয়েলা প্রধান লিয়া পোজ্জিও বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ত্রাণের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আগামী তিন মাসে পাঁচ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে ৫ কোটি ডলার জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা আগামী ছয় মাসে ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের তহবিল চেয়েছে।

নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। লা গুয়াইরার বাসিন্দা হেলেন গুয়েদেজ বলেন, জীবিত না পেলেও অন্তত প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধার করে সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে চান তারা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ