সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এ নির্দেশনার কথা শুক্রবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যোগাযোগ ও যাতায়াতব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারি কর্মীদের এখন বিশেষ অনুমোদন নিতে হচ্ছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও জেদ্দা ও দাম্মামের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। কিছু ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের আকাশপথে যাতায়াতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য কিংবা হামলার স্থান ছবি বা ভিডিওতে ধারণ না করতে বলা হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, সৌদি আইনে এ ধরনের ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, বৃহস্পতিবার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চল অভিমুখে ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং রিয়াদ অঞ্চলে পাঠানো একটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটটি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে সংঘাত বেড়েছে। এর পাশাপাশি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ