যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মধ্যস্থতা করছে কাতার। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেহরানে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার পুরো সময় যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে কাতার। সমঝোতার ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও এখনো আলোচনা শেষ হয়নি।
মধ্যস্থতাকারীরা এমন কিছু পারস্পরিক পদক্ষেপের বিষয়ে দুই দেশকে একমত করার চেষ্টা করছেন, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। তবে আলোচনার প্রাথমিক শর্ত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানে এখনো পার্থক্য রয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ফেরার আগে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে হবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিপরীতে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত দেওয়া এবং পুনরায় তেল বিক্রির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি জাতিসংঘের পরিদর্শকদের দেওয়ার বিষয়েও তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা আলোচনা করতে চায়। তারা বারবার আলোচনার কথা বলছে।’
ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার দাবি, দেশটির সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থও তেহরানের হাতে নেই। ইরান বড় ধরনের সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বেশ বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে।’
চলমান সংঘাতকে প্রচলিত যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করতে রাজি নন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই অর্থ খরচ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ থেকে পাওয়া সুবিধা ইরানবিরোধী অভিযানের ব্যয়ের চেয়ে বেশি বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: সামা টিভি।
মন্তব্যসমূহ