এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই বোর্ডটির সর্বনিম্ন পাসের হার। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় সূচকেই আগের বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী—এই ছয় জেলার ১৯৩টি কেন্দ্রে মোট ৯৫ হাজার ৯৩ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯২ হাজার ১৬২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৪ হাজার ২৭২ জন।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ২৮ হাজার ৪১৫ জন এবং ছাত্র ১৫ হাজার ৮৫৭ জন। মেয়েদের পাসের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে ছেলেদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।
জিপিএ-৫ অর্জনেও ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। এ বছর বোর্ডে সর্বোচ্চ ফল পাওয়া ১ হাজার ৩১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮২১ জন ছাত্রী এবং ৪৯২ জন ছাত্র।
গত পাঁচ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে আরও কমে হয় ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ডের মাত্র চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
মন্তব্যসমূহ