সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী মদিনা—বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করার পর দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরেকটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মদিনা অঞ্চলেও হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছে তারা।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের উত্তেজনার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, দেশটির রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও সৌদি জোট ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে তীব্র হচ্ছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল দেশটির জ্বালানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের মজুত এ অঞ্চলে অবস্থিত। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ও এখানে। ফলে ওই এলাকায় একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনায় জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবরের শুরুর দিকে একটি হামলায় সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
এদিকে, শুক্রবার মদিনার আকাশে একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ড্রোনটি হুথি বিদ্রোহীরা পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হলেও এ হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে হুথিরা।
ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনায় প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান যান। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অঞ্চলের আকাশে ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসের ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
মন্তব্যসমূহ