ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনে যেতে পারে ইসরায়েল

সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনে যেতে পারে ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। বাকি ১৯টি আসন গেছে আরব দলগুলোর ঝুলিতে। ফলে ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে এখন জটিল রাজনৈতিক সমঝোতার মুখোমুখি দলগুলো।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল আগামী ৪ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে কোনো জোটেরই এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দলগুলোর নেতাদের হাতে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রায় ১২ সপ্তাহ সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনে যেতে হতে পারে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে অচলাবস্থা কাটানোর চারটি সম্ভাব্য পথের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজনের কারণে প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় বাধা। এমনকি কোনো সমঝোতা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে এক বছরের কিছু বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।

১. আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী সরকার

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের একটি সম্ভাব্য পথ হলো ইহুদি ও আরব দলগুলোর সহযোগিতায় সরকার গঠন। তবে এই সমীকরণের সবচেয়ে বড় বাধা বিরোধী জোটেরই দুই ডানপন্থি নেতা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান।

সংসদের আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন তাঁরা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর থেকে এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

ইসরায়েলের ইতিহাসে মাত্র একটি সরকারে আরব দলের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। ২০২১ সালে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে গঠিত আট দলের জোটে ছিল রাআম পার্টি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকারের পতন ঘটে।

আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন সম্ভব না হলেও বিরোধী দলগুলো সংসদে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে রাখা সম্ভব হতে পারে।

২. জাতীয় ঐকমত্যের সরকার

দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে ভাঙন তৈরি করে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনও হতে পারে আরেকটি সমাধান। এমন সরকারে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাঁর বর্তমান জোটের কয়েকটি শরিক দলের পাশাপাশি বিরোধী জোটের অন্তত একটি দলকে যুক্ত হতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং কট্টর-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়তে তিনি রাজি হবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি হলে তা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী অনেক ইসরায়েলির কাছে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৩. বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের দলত্যাগ

নেতানিয়াহুর আরেকটি সম্ভাব্য কৌশল হতে পারে বিরোধী দল থেকে আইনপ্রণেতাদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসা। ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যদের দলত্যাগে উৎসাহিত করে তিনি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।

তবে এ পথেও বাধা রয়েছে। বিরোধী জোটের চার নেতা—গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, অ্যাভিগডর লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান—সবাই নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে বসবেন না বলে জানিয়েছেন। তার ওপর নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে অন্তত আটজন আইনপ্রণেতাকে দলত্যাগে রাজি করানো কঠিন হবে।

৪. নতুন নির্বাচন

অন্য তিনটি পথের কোনোটিই কার্যকর না হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সংসদে আসন পাওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাঁদের মতামত নেওয়ার পর সরকার গঠনের চেষ্টা করতে একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন তিনি।

আরব দলগুলো আইজেনকোটকে সমর্থন জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ইয়াশার পার্টির এই নেতাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। দায়িত্ব পাওয়া নেতা এ জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে।

প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সময় থাকবে ২৮ দিন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় একজন প্রার্থী মনোনীত করার অনুরোধ জানাতে পারবেন। ওই প্রার্থী জোট গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় পাবেন।

এই তিন ধাপের কোনো প্রচেষ্টাতেই সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই সময়সীমার হিসাব অনুযায়ী, আপাতত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন নেতানিয়াহু। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় অপেক্ষা করার সুযোগ পাবেন। প্রথমে আইজেনকোট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগ নেতানিয়াহুর কাছে যেতে পারে। তিনিও ব্যর্থ হলে দেশটি আবার নির্বাচনের দিকে এগোতে পারে। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।

সব মিলিয়ে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনটি হলে আট বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে হবে ইসরায়েলিদের।

সূত্র: সিএনএন।

ট্যাগ : ইসরায়েল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনে যেতে পারে ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। বাকি ১৯টি আসন গেছে আরব দলগুলোর ঝুলিতে। ফলে ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে এখন জটিল রাজনৈতিক সমঝোতার মুখোমুখি দলগুলো।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল আগামী ৪ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে কোনো জোটেরই এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দলগুলোর নেতাদের হাতে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রায় ১২ সপ্তাহ সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনে যেতে হতে পারে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে অচলাবস্থা কাটানোর চারটি সম্ভাব্য পথের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজনের কারণে প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় বাধা। এমনকি কোনো সমঝোতা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে এক বছরের কিছু বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।

১. আরব দলগুলোর সমর্থনে বিরোধী সরকার

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের একটি সম্ভাব্য পথ হলো ইহুদি ও আরব দলগুলোর সহযোগিতায় সরকার গঠন। তবে এই সমীকরণের সবচেয়ে বড় বাধা বিরোধী জোটেরই দুই ডানপন্থি নেতা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান।

সংসদের আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন তাঁরা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর থেকে এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

ইসরায়েলের ইতিহাসে মাত্র একটি সরকারে আরব দলের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। ২০২১ সালে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে গঠিত আট দলের জোটে ছিল রাআম পার্টি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকারের পতন ঘটে।

আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন সম্ভব না হলেও বিরোধী দলগুলো সংসদে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে রাখা সম্ভব হতে পারে।

২. জাতীয় ঐকমত্যের সরকার

দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে ভাঙন তৈরি করে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনও হতে পারে আরেকটি সমাধান। এমন সরকারে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাঁর বর্তমান জোটের কয়েকটি শরিক দলের পাশাপাশি বিরোধী জোটের অন্তত একটি দলকে যুক্ত হতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং কট্টর-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়তে তিনি রাজি হবেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি হলে তা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী অনেক ইসরায়েলির কাছে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৩. বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের দলত্যাগ

নেতানিয়াহুর আরেকটি সম্ভাব্য কৌশল হতে পারে বিরোধী দল থেকে আইনপ্রণেতাদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসা। ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যদের দলত্যাগে উৎসাহিত করে তিনি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।

তবে এ পথেও বাধা রয়েছে। বিরোধী জোটের চার নেতা—গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, অ্যাভিগডর লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান—সবাই নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে বসবেন না বলে জানিয়েছেন। তার ওপর নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে অন্তত আটজন আইনপ্রণেতাকে দলত্যাগে রাজি করানো কঠিন হবে।

৪. নতুন নির্বাচন

অন্য তিনটি পথের কোনোটিই কার্যকর না হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সংসদে আসন পাওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাঁদের মতামত নেওয়ার পর সরকার গঠনের চেষ্টা করতে একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন তিনি।

আরব দলগুলো আইজেনকোটকে সমর্থন জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ইয়াশার পার্টির এই নেতাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। দায়িত্ব পাওয়া নেতা এ জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে।

প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সময় থাকবে ২৮ দিন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় একজন প্রার্থী মনোনীত করার অনুরোধ জানাতে পারবেন। ওই প্রার্থী জোট গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় পাবেন।

এই তিন ধাপের কোনো প্রচেষ্টাতেই সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই সময়সীমার হিসাব অনুযায়ী, আপাতত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন নেতানিয়াহু। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় অপেক্ষা করার সুযোগ পাবেন। প্রথমে আইজেনকোট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগ নেতানিয়াহুর কাছে যেতে পারে। তিনিও ব্যর্থ হলে দেশটি আবার নির্বাচনের দিকে এগোতে পারে। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।

সব মিলিয়ে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনটি হলে আট বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে হবে ইসরায়েলিদের।

সূত্র: সিএনএন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ