রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও না বাড়াতে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রকাশ্য বক্তব্যে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত অন্তত চারটি নিরপেক্ষ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে ন্যাটোর একাধিক সদস্য দেশের কর্মকর্তাদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
রুদ্ধদ্বার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব দেশের কাছে বিশেষভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে লিথুয়েনিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনের উদ্বেগ, ইউরোপীয় নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাশিয়াবিরোধী কিছু বক্তব্য মহাদেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে, ইউরোপের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে রাশিয়াকে কোণঠাসা হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁদের বক্তব্যে আরও বলা হচ্ছে, ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান ধীরগতিতে এগোনোর কারণে মস্কো মরিয়া হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পেন্টাগনের এই বার্তা এমন সময়ে এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের অবসানে আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো প্রণোদনার বিষয়ও রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা বন্ধে কিয়েভের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি পর্যালোচনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবিও মিত্র দেশগুলোকে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এ উদ্যোগে তাঁর বাইরে আর কোনো মার্কিন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, মিত্রদের মধ্যে হওয়া গোপন আলোচনা গোপনই থাকা উচিত। তাই এ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে না।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ