ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পথে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পথে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র
ফাইল ছবি
ফলো করুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য নতুন জ্বালানিও প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কেন্দ্রটির কার্যক্রমে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি ইউনিটটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছেছে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রথম ইউনিটের এই অগ্রগতির পর এবার দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রসাটমের জ্বালানি বিভাগের অধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি বিশেষ পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে বাংলাদেশে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাইবেরিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী জ্বালানি পুনঃস্থাপন বা রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও এসেছে। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে বিশেষ কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।

রিঅ্যাক্টরে ব্যবহারের আগে প্রতিটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলির চাক্ষুষ পরীক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পারমাণবিক ও বিকিরণ সুরক্ষার কঠোর নিয়ম মেনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রস্তুতকারকদের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের কাজ করছে।

তবে জ্বালানি সরবরাহ ও লোডিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে না। পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন পরীক্ষা পাস করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং দেশের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই রিঅ্যাক্টরগুলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার ‘প্রজন্ম-৩+’ বা জেনারেশন ৩ প্লাস প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্পটির মূল নকশাকার ও প্রধান সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।

ট্যাগ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পথে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য নতুন জ্বালানিও প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কেন্দ্রটির কার্যক্রমে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি ইউনিটটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছেছে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রথম ইউনিটের এই অগ্রগতির পর এবার দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রসাটমের জ্বালানি বিভাগের অধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি বিশেষ পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে বাংলাদেশে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাইবেরিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী জ্বালানি পুনঃস্থাপন বা রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও এসেছে। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে বিশেষ কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।

রিঅ্যাক্টরে ব্যবহারের আগে প্রতিটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলির চাক্ষুষ পরীক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পারমাণবিক ও বিকিরণ সুরক্ষার কঠোর নিয়ম মেনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রস্তুতকারকদের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের কাজ করছে।

তবে জ্বালানি সরবরাহ ও লোডিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে না। পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন পরীক্ষা পাস করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং দেশের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই রিঅ্যাক্টরগুলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার ‘প্রজন্ম-৩+’ বা জেনারেশন ৩ প্লাস প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্পটির মূল নকশাকার ও প্রধান সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ