ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন
ফাইল ছবি
ফলো করুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে আরও অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিটটিতে বি-২ ধাপের ফিজিক্যাল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর সময় কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

স্টেজ-সি পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা। ড. জাহেদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ পর্যায়ের পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হবে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগিতা যাচাই করাও এ প্রক্রিয়ার অংশ।

ড. জাহেদুল হাসান আরও জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়া, কমিশনিং-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ইউনিটটিকে ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনা পর্যায়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে।

তবে স্টেজ-সি পর্যায়ে প্রবেশ, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন এক বিষয় নয়; এগুলো পৃথক তিনটি মাইলফলক। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে।

ট্যাগ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে আরও অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিটটিতে বি-২ ধাপের ফিজিক্যাল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর সময় কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

স্টেজ-সি পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা। ড. জাহেদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ পর্যায়ের পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হবে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগিতা যাচাই করাও এ প্রক্রিয়ার অংশ।

ড. জাহেদুল হাসান আরও জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়া, কমিশনিং-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ইউনিটটিকে ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনা পর্যায়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে।

তবে স্টেজ-সি পর্যায়ে প্রবেশ, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন এক বিষয় নয়; এগুলো পৃথক তিনটি মাইলফলক। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ