ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার জয়ের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতারা। লুলার এই জয়কে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক! ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে। অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট লুলা।”
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল লুলার জয়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। লুলাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনার নেতৃত্বে ব্রাজিলীয় জনগণ যে শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে যাত্রা শুরু করেছে, (এ জয়) তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে।”
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “এই মহান গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্য আমি ব্রাজিলের জনগণকে স্যালুট জানাই।”
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাস দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, “বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অভিন্ন ইতিহাস ও সাধারণা চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমাদের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এবং উভয় দেশের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাবো।”
উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি লুলাকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে বলেন, “বন্ধুকে এই জয়ের জন্য এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক উৎসব পালিত হল তার জন্য অভিনন্দন।”
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোও ব্রাজিলের জনগণ ও লুলাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এই গণতান্ত্রিক দিনটির জন্য ব্রাজিলীয় জনগণকে আর বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট লুলাকে তার জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই।”
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার পরপরই লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে তিনি ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। চতুর্থ মেয়াদে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভোটার।
অন্যদিকে, বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট, যার পরিমাণ ৫ কোটি ৯০ লাখের কিছু বেশি।
৮০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা লুলার এই জয় জনমত জরিপ, পূর্ববর্তী নির্বাচনী নজির এবং ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মনোভাবের পূর্বাভাসকে চ্যালেঞ্জ করেছে। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে পড়ার পর তার এই প্রত্যাবর্তন লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থিদের নির্বাচনী সাফল্যের ধারায়ও ছেদ ফেলেছে।
সূত্র : বিবিসি
মন্তব্যসমূহ