সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দালালচক্রের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে হাসপাতালের আশপাশে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন এবং সরকারি চিকিৎসকদের এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা দালালদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
তাঁর মতে, রোগীদের ভুল বুঝিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ড. এম এ মুহিত জানান, সরকারি হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসকেরা এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কোন শর্তে কাজ করতে পারবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। সেখানকার সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীরা যেন এডিস মশার কামড়ে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হন, সে জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ