কিডনি শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কিডনির দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে শুরুতেই অনেকের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তাই শরীরে কিছু পরিবর্তন নিয়মিত দেখা দিলে সেগুলোকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের চেহারায় পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক ফেনা দেখা দেওয়া কিডনি সমস্যার সম্ভাব্য সংকেত হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তনের পেছনে কিডনি ছাড়াও অন্য কারণ থাকতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পা, গোড়ালি বা শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে পারে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে এ ধরনের ফোলাভাব তৈরি হতে পারে। কিছু কিডনি রোগে চোখের চারপাশেও, বিশেষ করে সকালে, ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সঙ্গে রক্তশূন্যতা এবং শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হলে দুর্বলতা বা অবসাদ অনুভূত হতে পারে।
চতুর্থত, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার। কিডনির ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা অন্য প্রোটিন চলে যেতে পারে, যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ফেনা দেখলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।
পঞ্চমত, রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হলেও সতর্ক হওয়া উচিত। এটি কিডনি রোগের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হলেও ডায়াবেটিসসহ আরও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু এই একটি লক্ষণের ভিত্তিতে কিডনি রোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিডনি রোগ থাকলেও শুরুতে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। এ কারণেই বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা পরিবারে কিডনি বিকল হওয়ার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনির অবস্থা মূল্যায়নে সাধারণত রক্তের ক্রিয়েটিনিন থেকে eGFR এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন অনুপাত (UACR) পরীক্ষা করা হয়। কিডনি রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে এসব পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই শরীরে এমন পরিবর্তন বারবার দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। কারণ লক্ষণ থাকলেই কিডনি রোগ হবে এমন নয়, আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও কিডনিতে সমস্যা থাকতে পারে।
মন্তব্যসমূহ