ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে?

হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা। তবে হামলাগুলোর সাফল্য সম্পর্কে হুথিদের দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

সোমবার রাতে রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে বাসিন্দাদের মোবাইলে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। খামিস মুশাইতের দিকেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছে জোটটি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একই সঙ্গে খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সৌদি পক্ষ বলছে, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করেছে।

এটি রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের হামলা। এর আগে শনিবার কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। রোববারও বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ধারাবাহিক হামলার কারণে বিমানবন্দরটি অন্তত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।

এত ধারাবাহিক হামলার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কেন সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগাম সতর্কতা দিতে পারেনি বা সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারেনি। এপি-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে একাধিক ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়।

আরও উদ্বেগের বিষয়, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ইয়েমেন থেকে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুথিরা বিভিন্ন গতি ও ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে।

হুথি বা আনসার আল্লাহ ইয়েমেনের একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন। ১৯৯০-এর দশকে উত্তর ইয়েমেনের জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে তাদের উত্থান। পরবর্তী সময়ে তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ায়।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। এরপর দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সরাসরি যুদ্ধে নামে। সেই সংঘাতই ইয়েমেনকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে পরিণত করে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কয়েক দফা নবায়নের পর ওই বছরের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হলেও সংঘাতের মাত্রা আগের তুলনায় অনেক কমে যায়। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন করে বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং বাব আল-মানদেবের কাছে কৌশলগত অবস্থান দখল করেছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের বিরোধ শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়। ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বিস্তারও রিয়াদের অন্যতম বড় উদ্বেগ। হুথিরা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে এবং তেহরানের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে হুথিরা নিজেদের ইরানের নিয়ন্ত্রিত প্রক্সি হিসেবে বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করে। 

২০১৫ সালের পর হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব আবারও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করায় পাল্টা হামলা হিসেবে রিয়াদ ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে হুথিরা।

হুথিদের সামরিক সক্ষমতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের হাতে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন রয়েছে।

তাদের সবচেয়ে আলোচিত অস্ত্রগুলোর একটি ‘প্যালেস্টাইন-২’। হুথিরা এটিকে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে দাবি করে। আল-জাজিরার বিশ্লেষণে এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘হাইপারসনিক’ সক্ষমতার দাবিটি হুথিদের নিজস্ব দাবি হিসেবে দেখা উচিত। 

এ ছাড়া ‘তুফান’, ‘বুরকান’ ও ‘বদর’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অস্ত্রের অনেকগুলোর নকশা বা প্রযুক্তিগত উৎস ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়। 

হুথিদের শক্তি শুধু ক্ষেপণাস্ত্রে নয়, তাদের ভৌগোলিক অবস্থানেও। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মানদেবের কাছে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তাদের আন্তর্জাতিক নৌপথে চাপ তৈরির সুযোগ দিয়েছে। সেপ্টেম্বরেই হুথিরা মোখা, ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের মতো কৌশলগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করার পর হুথিরা বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। তাদের হামলার ফলে অনেক জাহাজকে দীর্ঘতর আফ্রিকা ঘুরে চলাচল করতে হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। 

এখন রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা দেখাচ্ছে, ইয়েমেনের যুদ্ধ আর শুধু ইয়েমেনের ভেতরের সংঘাত নয়। এর প্রভাব পড়ছে সৌদি আরবের বিমান চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায়। আর হুথিদের হাতে থাকা দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের আঞ্চলিক হুমকিকে আরও বড় করে তুলেছে।

ট্যাগ : সৌদি আরব হুথি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা। তবে হামলাগুলোর সাফল্য সম্পর্কে হুথিদের দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

সোমবার রাতে রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে বাসিন্দাদের মোবাইলে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। খামিস মুশাইতের দিকেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছে জোটটি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একই সঙ্গে খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সৌদি পক্ষ বলছে, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করেছে।

এটি রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের হামলা। এর আগে শনিবার কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। রোববারও বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ধারাবাহিক হামলার কারণে বিমানবন্দরটি অন্তত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।

এত ধারাবাহিক হামলার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কেন সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগাম সতর্কতা দিতে পারেনি বা সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারেনি। এপি-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে একাধিক ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়।

আরও উদ্বেগের বিষয়, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ইয়েমেন থেকে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুথিরা বিভিন্ন গতি ও ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে।

হুথি বা আনসার আল্লাহ ইয়েমেনের একটি সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন। ১৯৯০-এর দশকে উত্তর ইয়েমেনের জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে তাদের উত্থান। পরবর্তী সময়ে তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ায়।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। এরপর দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সরাসরি যুদ্ধে নামে। সেই সংঘাতই ইয়েমেনকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে পরিণত করে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কয়েক দফা নবায়নের পর ওই বছরের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হলেও সংঘাতের মাত্রা আগের তুলনায় অনেক কমে যায়। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন করে বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং বাব আল-মানদেবের কাছে কৌশলগত অবস্থান দখল করেছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের বিরোধ শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়। ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বিস্তারও রিয়াদের অন্যতম বড় উদ্বেগ। হুথিরা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে এবং তেহরানের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে হুথিরা নিজেদের ইরানের নিয়ন্ত্রিত প্রক্সি হিসেবে বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করে। 

২০১৫ সালের পর হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব আবারও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করায় পাল্টা হামলা হিসেবে রিয়াদ ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে হুথিরা।

হুথিদের সামরিক সক্ষমতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের হাতে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন রয়েছে।

তাদের সবচেয়ে আলোচিত অস্ত্রগুলোর একটি ‘প্যালেস্টাইন-২’। হুথিরা এটিকে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে দাবি করে। আল-জাজিরার বিশ্লেষণে এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘হাইপারসনিক’ সক্ষমতার দাবিটি হুথিদের নিজস্ব দাবি হিসেবে দেখা উচিত। 

এ ছাড়া ‘তুফান’, ‘বুরকান’ ও ‘বদর’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অস্ত্রের অনেকগুলোর নকশা বা প্রযুক্তিগত উৎস ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়। 

হুথিদের শক্তি শুধু ক্ষেপণাস্ত্রে নয়, তাদের ভৌগোলিক অবস্থানেও। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মানদেবের কাছে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তাদের আন্তর্জাতিক নৌপথে চাপ তৈরির সুযোগ দিয়েছে। সেপ্টেম্বরেই হুথিরা মোখা, ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের মতো কৌশলগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করার পর হুথিরা বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। তাদের হামলার ফলে অনেক জাহাজকে দীর্ঘতর আফ্রিকা ঘুরে চলাচল করতে হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। 

এখন রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা দেখাচ্ছে, ইয়েমেনের যুদ্ধ আর শুধু ইয়েমেনের ভেতরের সংঘাত নয়। এর প্রভাব পড়ছে সৌদি আরবের বিমান চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায়। আর হুথিদের হাতে থাকা দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের আঞ্চলিক হুমকিকে আরও বড় করে তুলেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ