ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘সংবিধান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ’

সুপ্রিম কোর্টমুখী পদযাত্রার পর রাহুল গান্ধী

‘সংবিধান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ’
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছেন বলে তিনি মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পদযাত্রা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ, ইন্ডিয়া জোটের নেতারা, কংগ্রেস ও সহযোগী দলগুলোর নেতাকর্মী এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রাহুল বলেন, দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, এর মাধ্যমে সরকারকে দেখানো প্রয়োজন ছিল যে ভারতের মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। তার ভাষায়, কাউকে পরাজিত করা, হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখিয়ে পিছু হটানো সম্ভব নয় এবং ক্ষমতার জোরে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও তারা মেনে নেবেন না। 

এর আগে দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন জোরদার হয়। সোমবার রাহুল গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামে পদযাত্রা করেন। 

তবে মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। দিল্লি পুলিশ আদালত থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভাগবান দাস রোডে ব্যারিকেড দিয়ে পদযাত্রা আটকে দেয়। এর আগে নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বিরোধী নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডির তেজস্বী যাদবসহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা। একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের একটি যৌথ আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়। 

রাহুল গান্ধী তার বক্তব্যে সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগও তোলেন। তিনি বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন পাঠানোর অভিযোগ করেন। পাশাপাশি আরএসএসের কর্মীদের সরাসরি আন্দোলনকারীদের সামনে এসে মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ জানান। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি ও আরএসএসের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। রাহুল বলেন, এটি আলাদা আলাদা দলের পৃথক কোনো আন্দোলন নয়। তার ভাষায়, সব প্রতিবাদ মিলিয়ে একটি আন্দোলন তৈরি হয়েছে। সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে যারা পাশে থাকবেন, তাদের সঙ্গে বিরোধীরা একসঙ্গে থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্রের ‘হত্যাকারীদের’ বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং আন্দোলন থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসায় তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

রাহুলের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন দিল্লির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। 

এদিকে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিরোধিতা চলছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সেখানে বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি তুলেছেন। দিল্লি পুলিশ অবশ্য বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিকল্প স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

ট্যাগ : ভারত রাহুল গান্ধী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


‘সংবিধান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ’

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছেন বলে তিনি মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পদযাত্রা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ, ইন্ডিয়া জোটের নেতারা, কংগ্রেস ও সহযোগী দলগুলোর নেতাকর্মী এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রাহুল বলেন, দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, এর মাধ্যমে সরকারকে দেখানো প্রয়োজন ছিল যে ভারতের মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। তার ভাষায়, কাউকে পরাজিত করা, হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখিয়ে পিছু হটানো সম্ভব নয় এবং ক্ষমতার জোরে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও তারা মেনে নেবেন না। 

এর আগে দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন জোরদার হয়। সোমবার রাহুল গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামে পদযাত্রা করেন। 

তবে মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। দিল্লি পুলিশ আদালত থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভাগবান দাস রোডে ব্যারিকেড দিয়ে পদযাত্রা আটকে দেয়। এর আগে নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বিরোধী নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডির তেজস্বী যাদবসহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা। একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের একটি যৌথ আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়। 

রাহুল গান্ধী তার বক্তব্যে সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগও তোলেন। তিনি বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন পাঠানোর অভিযোগ করেন। পাশাপাশি আরএসএসের কর্মীদের সরাসরি আন্দোলনকারীদের সামনে এসে মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ জানান। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি ও আরএসএসের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। রাহুল বলেন, এটি আলাদা আলাদা দলের পৃথক কোনো আন্দোলন নয়। তার ভাষায়, সব প্রতিবাদ মিলিয়ে একটি আন্দোলন তৈরি হয়েছে। সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে যারা পাশে থাকবেন, তাদের সঙ্গে বিরোধীরা একসঙ্গে থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্রের ‘হত্যাকারীদের’ বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং আন্দোলন থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসায় তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

রাহুলের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন দিল্লির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। 

এদিকে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিরোধিতা চলছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সেখানে বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি তুলেছেন। দিল্লি পুলিশ অবশ্য বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিকল্প স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ