রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হুথি হামলার পর সৌদি আরবের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় একের পর এক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোকেও ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ।
শনিবারের হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে এপি জানিয়েছে। পরদিন রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এরপর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও তাদের সূচিতে পরিবর্তন আনছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ রিয়াদে যাওয়া-আসার সব ফ্লাইট ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে। একই সঙ্গে দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছে।
বাহরাইনের গালফ এয়ারও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট শনিবার পর্যন্ত বাতিল করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনস আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে। ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা ওই ফ্লাইট এখন মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস সৌদি আরব ও আশপাশের অঞ্চলে ফ্লাইট বাতিল বা পরিবর্তন করেছে। রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, আর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সূচি নির্ধারণ করছে বিমান সংস্থাগুলো।
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো তাদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এটি হুথিদের ঘোষিত হুমকি, এর অর্থ এই নয় যে সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে একাধিক ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার একটি অংশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে রিয়াদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর চাপ তৈরি করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকতে পারে। ফলে সৌদি আরবের প্যাট্রিয়টসহ প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এগুলো প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে। তবে এসব তথ্য এখনো চলমান তদন্তের প্রাথমিক মূল্যায়নের অংশ।
সব মিলিয়ে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা এখন শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে। রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিলের ফলে সংকটের প্রভাব সৌদি সীমান্ত ছাড়িয়ে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগেও ছড়িয়ে পড়ছে।
মন্তব্যসমূহ