ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এদিন দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রের সব পরিচালনগত প্যারামিটার নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে রয়েছে।

বিকিরণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে। এই মডেলে উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রথম ইউনিটের ‘বি-ওয়ান’ পর্যায়ের কার্যক্রম মোটামুটি সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেটিও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

পরবর্তী ধাপ ‘বি-টু’-তে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক পরিচালনার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের প্রক্রিয়া।

ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক চুল্লির এমন একটি অবস্থা, যখন পরমাণু বিভাজনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে অব্যাহত থাকে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ।

এই পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চুল্লির কার্যক্রম ও শক্তি উৎপাদনের মাত্রা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করে উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা গেলে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

তবে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়া সফল হওয়ার অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কিছু কারিগরি ও পরিচালনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

ট্যাগ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এদিন দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রের সব পরিচালনগত প্যারামিটার নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে রয়েছে।

বিকিরণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে। এই মডেলে উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রথম ইউনিটের ‘বি-ওয়ান’ পর্যায়ের কার্যক্রম মোটামুটি সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেটিও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

পরবর্তী ধাপ ‘বি-টু’-তে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক পরিচালনার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের প্রক্রিয়া।

ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক চুল্লির এমন একটি অবস্থা, যখন পরমাণু বিভাজনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে অব্যাহত থাকে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ।

এই পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চুল্লির কার্যক্রম ও শক্তি উৎপাদনের মাত্রা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করে উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা গেলে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

তবে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়া সফল হওয়ার অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কিছু কারিগরি ও পরিচালনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ