ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে: রিজভী

জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে: রিজভী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে প্রশাসনের ভেতর থেকেও একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারের এসব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা মেনে নেওয়া উচিত নয়। যারা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিভিন্ন সময়ে বাধার মুখে পড়েছে। তার অভিযোগ, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে পরাজিত শক্তিগুলো গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরস্পরকে সহযোগিতা করেছে।

আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে যাওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগীরা এখনো সমাজ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। তারা সরকারের জনবান্ধব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে দুটি ককটেলের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি বিস্ফোরিত হয়নি। এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথা থেকে পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় উৎসবে একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার ঐতিহ্যও রয়েছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথাও বলেন বিএনপির এই নেতা।

শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে রিজভী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে জেহাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তার আত্মদান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এ সময় তিনি জেহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ দলের অন্য নেতারা।

ট্যাগ : বিএনপি রুহুল কবির রিজভী গণতন্ত্র দুর্গাপূজা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে: রিজভী

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে প্রশাসনের ভেতর থেকেও একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারের এসব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা মেনে নেওয়া উচিত নয়। যারা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিভিন্ন সময়ে বাধার মুখে পড়েছে। তার অভিযোগ, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে পরাজিত শক্তিগুলো গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরস্পরকে সহযোগিতা করেছে।

আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে যাওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগীরা এখনো সমাজ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। তারা সরকারের জনবান্ধব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে দুটি ককটেলের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি বিস্ফোরিত হয়নি। এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথা থেকে পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় উৎসবে একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার ঐতিহ্যও রয়েছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথাও বলেন বিএনপির এই নেতা।

শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে রিজভী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে জেহাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তার আত্মদান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এ সময় তিনি জেহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ দলের অন্য নেতারা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ