ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন নেই এমন ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেওয়ার সঙ্গে কোনো চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ, প্রসাধনী এবং ওষুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের পরিচালিত ওই অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদনহীন কোনো ওষুধ চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করার সুযোগ নেই। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে।
তদন্তে এসব ওষুধ কারা বিক্রি করতেন, কোথায় সরবরাহ করা হতো এবং কোনো ডিসপেনসারিতে সেগুলো রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভেজাল ওষুধ তৈরির কার্যক্রম কতদিন ধরে চলছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন। এ কাজে ব্যবহৃত বাসাটিও প্রায় তিন মাস আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
চক্রটির কার্যক্রম ঢাকার বাইরে ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। শফিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা ঢাকার মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে তদন্ত অগ্রসর হলে তাদের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত ছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “ওষুধ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না।”
মন্তব্যসমূহ