ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে পালিত হবে তামাকমুক্ত দিবস

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে পালিত হবে তামাকমুক্ত দিবস
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সারাদেশে পালিত হবে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস। দিবসটি ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাটা জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে দেশে প্রতিবছর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আবাহনী খেলার মাঠের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাটা। সংগঠনটির দাবি, প্রায় সাত হাজার ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বাটা বলছে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সংগঠনটির দাবি, পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের সময় এ বিধানটি বাতিল করা হয়।

ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। বাটার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ছিল ০.২ শতাংশ। ২০২৬ সালে তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের হার বেড়ে ৭.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে।

সংগঠনটির মতে, নিকোটিননির্ভর এসব আসক্তিকর পণ্য ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। নতুন নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাটা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের আকর্ষণ ও ব্যবহার বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইংল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে বাটা জানায়, সেখানে ২০২৬ সালে করা একটি নতুন আইনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তামাকমুক্ত প্রজন্ম তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০০৯ বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না এবং ২০২৭ সাল থেকে এ বিধান কার্যকর হবে।

বাংলাদেশে তিনটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিকে সুযোগ দিতে ই-সিগারেটের মতো পণ্যের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে বাটা। তবে সরবরাহ করা সংবাদে এ অভিযোগের পক্ষে পৃথক কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বক্তব্য উল্লেখ নেই।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিশু-তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য নতুন নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।

ট্যাগ : জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে পালিত হবে তামাকমুক্ত দিবস

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সারাদেশে পালিত হবে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস। দিবসটি ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাটা জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে দেশে প্রতিবছর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আবাহনী খেলার মাঠের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাটা। সংগঠনটির দাবি, প্রায় সাত হাজার ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বাটা বলছে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সংগঠনটির দাবি, পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের সময় এ বিধানটি বাতিল করা হয়।

ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। বাটার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ছিল ০.২ শতাংশ। ২০২৬ সালে তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের হার বেড়ে ৭.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে।

সংগঠনটির মতে, নিকোটিননির্ভর এসব আসক্তিকর পণ্য ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। নতুন নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাটা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের আকর্ষণ ও ব্যবহার বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইংল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে বাটা জানায়, সেখানে ২০২৬ সালে করা একটি নতুন আইনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তামাকমুক্ত প্রজন্ম তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০০৯ বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না এবং ২০২৭ সাল থেকে এ বিধান কার্যকর হবে।

বাংলাদেশে তিনটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিকে সুযোগ দিতে ই-সিগারেটের মতো পণ্যের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে বাটা। তবে সরবরাহ করা সংবাদে এ অভিযোগের পক্ষে পৃথক কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বক্তব্য উল্লেখ নেই।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিশু-তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য নতুন নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ