ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা গুতেরেসের

আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা গুতেরেসের
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

আঞ্চলিক সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি দেশটির অব্যাহত অঙ্গীকারের স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিবৃতি অনুযায়ী, জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

আইএসপিআর জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাকিস্তান ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন গুতেরেস। আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও বিশেষ প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ, ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা এবং আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের বিষয় উঠে আসে।

আসিম মুনির বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাকিস্তানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি গুতেরেসের নেতৃত্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।

এর আগে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান জাতিসংঘ মহাসচিব। সেখানে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

গুতেরেসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং সংঘাতে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তানের প্রচেষ্টার ফলে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক, পরবর্তী যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ভূমিকার জন্য প্রত্যেক পাকিস্তানির গর্বিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন গুতেরেস। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গত দুই বছর ধরে সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে বিভাজন ও অবিশ্বাস বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিকতা, সংলাপ, মধ্যস্থতা ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশে জাতিসংঘ থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, সন্ত্রাসবাদের কারণে পাকিস্তানকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেন তিনি।

এর আগে ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে ফিলিস্তিন, জম্মু ও কাশ্মীর, আফগানিস্তান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করেন গুতেরেস। সেখানে ইসহাক দার জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এবং উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

ট্যাগ : পাকিস্তান জাতিসংঘ অ্যান্তেনিও গুতেরেস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা গুতেরেসের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আঞ্চলিক সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি দেশটির অব্যাহত অঙ্গীকারের স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিবৃতি অনুযায়ী, জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

আইএসপিআর জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাকিস্তান ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন গুতেরেস। আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও বিশেষ প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ, ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা এবং আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের বিষয় উঠে আসে।

আসিম মুনির বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাকিস্তানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি গুতেরেসের নেতৃত্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।

এর আগে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান জাতিসংঘ মহাসচিব। সেখানে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

গুতেরেসের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং সংঘাতে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তানের প্রচেষ্টার ফলে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক, পরবর্তী যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ভূমিকার জন্য প্রত্যেক পাকিস্তানির গর্বিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন গুতেরেস। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গত দুই বছর ধরে সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে বিভাজন ও অবিশ্বাস বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিকতা, সংলাপ, মধ্যস্থতা ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশে জাতিসংঘ থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, সন্ত্রাসবাদের কারণে পাকিস্তানকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেন তিনি।

এর আগে ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে ফিলিস্তিন, জম্মু ও কাশ্মীর, আফগানিস্তান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করেন গুতেরেস। সেখানে ইসহাক দার জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এবং উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ