কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লুলিকান্দি এলাকায় মিথ্যা মামলা, হয়রানি এবং প্রতারণার মাধ্যমে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খাইরুন নাহার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লুলিকান্দি গ্রামে নিজ এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লাইলী, হিরা মিয়াসহ স্থানীয়রা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, মো. সোহেল মিয়া ও মীম আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তারা দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ জুন কিশোরগঞ্জ আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তাদের সংসার জীবনও ভালোভাবে চলছিল বলে দাবি করেন স্বজনরা।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, মীম আক্তারের মা খাইরুন নাহার ওই সম্পর্ক ও সংসার মেনে নেননি। তাদের অভিযোগ, সোহেলের সঙ্গে মীমের সংসার ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করা হয়। এর মাধ্যমে সোহেলের কাছ থেকে মীমকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৮ জুন জিনারী ইউনিয়নের চরহাজীপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মীম আক্তারের বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ সময় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এলাকার নিরীহ ও নিরাপরাধ ব্যক্তিদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তারা।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কোনো পক্ষের প্রতি অন্যায় আচরণ চান না। বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক—এটাই তাদের দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে খাইরুন নাহার ও তার সহযোগীদের সাথে কথা হলে বলেন মেয়েকে আলমগীর এর সাথে বিয়ে দিয়েছি এখন সুখে আছে এটাই এর বেশী কিছু বলতে পারবো না। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।


মন্তব্যসমূহ