মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের দুটি আশ্রয়শিবিরে পরপর বিমান হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। দুই দিনের এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই রাজ্যে আরেকটি বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।
স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও যুব সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি হয় রোববার বিকেলে রাখাইনের পোন্নাগিউন এলাকার একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে। সেখানে বিমান হামলায় ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
এরপর সোমবার সকালে কাছাকাছি আরেকটি আশ্রয়শিবিরে আবারও বোমা হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলায় আরও দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন।
স্থানীয় তরুণ নেতা ক্যাও উইন তুন জানিয়েছেন, হামলার শিকার দুই শিবিরে থাকা সবাই বেসামরিক নাগরিক। যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে তারা আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।
সর্বশেষ এসব হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সবসময় সতর্ক থাকে। তবে সর্বশেষ হামলার তথ্য স্বাধীন কোনো সূত্র দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্য বর্তমানে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র। উপকূলীয় এই অঞ্চলের বেশির ভাগ অংশ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। হারানো এলাকা পুনর্দখলে সামরিক বাহিনী সেখানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহে রাখাইনের ক্যউকটাও বাজারের কাছে বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হন। ওই হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে চলমান সংঘাতে মিয়ানমারে প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সাড়ে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
নোট: প্রদত্ত প্রতিবেদনে প্রথম হামলার তারিখ ‘রোববার (৪ সেপ্টেম্বর)’ বলা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের অন্যান্য সময়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে এই তারিখের অসংগতি রয়েছে। তাই তারিখটি নিশ্চিত না করে প্রতিবেদনে শুধু ‘রোববার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: ইউএস নিউজ।
মন্তব্যসমূহ