ইউয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েল ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার পর মাঠের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় আয়ারল্যান্ডের কোচিং স্টাফের সদস্য ড্যামিয়েন ডয়েলের দিকে ইসরায়েলের এক ফুটবলার থুতু ছিটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইরিশ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গাজা যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত দুই দলের দুই ম্যাচের সিরিজে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। শেষ পর্যন্ত সিরিজের শেষ ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসন।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে সার্বিয়ার একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের আইসল্যান্ডিক কোচ হালগ্রিমসন বলেন, দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হওয়ায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। তার মতে, গত কয়েক সপ্তাহের পরিস্থিতি দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।
হালগ্রিমসনের ভাষায়, ‘সিরিজটি শেষ হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত। এটি আমাদের সবার ওপরই বড় মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। খেলোয়াড়দের পূর্ণ কৃতিত্ব দিতে হবে। এত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দারুণ পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে আমাদের যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, কোনো দেশের জাতীয় দল যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।’
ড্যামিয়েন ডয়েলের দিকে থুতু ছোড়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অবশ্য সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি হালগ্রিমসন। তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি দেখেছেন, কিন্তু এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চান না। কারণ বিষয়টি ইতোমধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির বিবেচনায় রয়েছে।
হালগ্রিমসন বলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তবে এ বিষয়ে কথা বলবেন না। বিষয়টি এখন শৃঙ্খলা কমিটির বিচারাধীন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধান কোচ রান বেন-শিমোনও ঘটনাটি দেখেছেন বলে দাবি করেননি। তিনি জানান, বিরতির সময় তিনি ড্রেসিংরুমে ছিলেন। ফলে মাঠে কী ঘটেছে, তা তার দেখা হয়নি।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচকদের অন্যতম আয়ারল্যান্ড। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ম্যাচ আয়োজন নিয়েও ছিল বাড়তি উত্তেজনা। আগের ম্যাচটি হাঙ্গেরির মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে দ্বিতীয় ম্যাচটি সার্বিয়ার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়।
দর্শক না থাকলেও ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনার আবহ ছিল স্পষ্ট। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতায় এবারও খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচলিত হ্যান্ডশেক হয়নি। একইভাবে ম্যাচের আগে জাতীয় পতাকা বিনিময়ের রীতিও পালন করা হয়নি। প্রতিপক্ষের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়।
এ ছাড়া গাজায় নিহতদের স্মরণে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি ম্যাচের আবহেও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
খেলার দিক থেকে ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আয়ারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ট্রয় পারট। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল আইরিশরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে সমতা ফেরায় ইসরায়েল। বিরতির পর দোর পেরেসের গোলে ১-১ হয় স্কোরলাইন। এরপর ইসরায়েল আরও গোলের সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের দুটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ হয় এবং দুই দলকে পয়েন্ট ভাগ করে নিতে হয়।
তবে ফলাফলের চেয়ে ম্যাচের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাই শেষ পর্যন্ত বেশি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আইরিশ কোচিং স্টাফের সদস্যকে থুতু দেওয়ার অভিযোগটি এখন শৃঙ্খলা কমিটির বিবেচনায় থাকায় এ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ