ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবার প্রথমবারের মতো প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায় ও শ্রেণিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হচ্ছে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের পেশাগত স্বীকৃতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এ বছর জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যাটি বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা স্তর থেকে বাছাই করে এসব শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা স্তরের জন্য আলাদা সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায় থেকে ২৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এ ছাড়া সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ২০ জন, মেডিকেল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০০ জনে।

শিক্ষকদের এই তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় একাধিক পর্যায়ের কমিটি কাজ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি নিজ নিজ পর্যায় থেকে শিক্ষক বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এসব প্যানেল পর্যালোচনা করে ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননার জন্য চূড়ান্ত করে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সম্মেলনে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

এ বছর শিক্ষকতা পেশার সুরক্ষা, শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত অবস্থান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার বিষয়টি প্রতিপাদ্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

ট্যাগ : বিশ্ব শিক্ষক দিবস গুণী শিক্ষক সম্মাননা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবার প্রথমবারের মতো প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায় ও শ্রেণিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হচ্ছে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের পেশাগত স্বীকৃতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এ বছর জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যাটি বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা স্তর থেকে বাছাই করে এসব শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা স্তরের জন্য আলাদা সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায় থেকে ২৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এ ছাড়া সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ২০ জন, মেডিকেল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০০ জনে।

শিক্ষকদের এই তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় একাধিক পর্যায়ের কমিটি কাজ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি নিজ নিজ পর্যায় থেকে শিক্ষক বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এসব প্যানেল পর্যালোচনা করে ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননার জন্য চূড়ান্ত করে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সম্মেলনে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

এ বছর শিক্ষকতা পেশার সুরক্ষা, শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত অবস্থান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার বিষয়টি প্রতিপাদ্যে গুরুত্ব পেয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ