ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রাম্প কি এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন?

ট্রাম্প কি এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন?
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন—এ প্রশ্নকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে মনে করেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে চলতি বছর তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা। এরই মধ্যে পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ী নির্বাচন ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২৫ বছরের নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে গত বছরের ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। কারণ ট্রাম্প নিজে পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে লবিং করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পুরস্কার না পেলেও মাচাদোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে মাচাদো তার নোবেল স্বর্ণপদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।

অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলো মনে করেন, এবার নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্য এমন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে পারেন, যিনি ট্রাম্পের চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের আলোচনায় এমন কয়েকটি নামও উঠে এসেছে, যেগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও অবস্থানের বিপরীতে উদার গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), ফিলিস্তিনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং পোপ লিও। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের কারও নাম বিবেচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে সরাসরি বিরোধিতা করে এমন কাউকে পুরস্কার দিলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। সে কারণে কমিটি চাইলে বিতর্ক এড়িয়ে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কোনো প্রার্থী বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সেক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকটে জর্জরিত সুদানের তৃণমূলভিত্তিক দাতব্য নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধকবলিত শিশুদের সহায়তায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের সমালোচনা করেছেন নোবেলজয়ী ফিলিপিনো সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তার মতে, শুধু পেশিশক্তি বা ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে বিশ্ব পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা ঘিরে একদিকে যেমন ট্রাম্পের মনোনয়ন ও তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে নোবেল কমিটি রাজনৈতিক চাপ থেকে কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি কাকে পুরস্কার দেবে, তা ৯ অক্টোবর ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ট্যাগ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাম্প কি এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন—এ প্রশ্নকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে মনে করেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে চলতি বছর তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা। এরই মধ্যে পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ী নির্বাচন ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২৫ বছরের নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে গত বছরের ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। কারণ ট্রাম্প নিজে পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে লবিং করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পুরস্কার না পেলেও মাচাদোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে মাচাদো তার নোবেল স্বর্ণপদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।

অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলো মনে করেন, এবার নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্য এমন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে পারেন, যিনি ট্রাম্পের চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের আলোচনায় এমন কয়েকটি নামও উঠে এসেছে, যেগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও অবস্থানের বিপরীতে উদার গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), ফিলিস্তিনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং পোপ লিও। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের কারও নাম বিবেচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে সরাসরি বিরোধিতা করে এমন কাউকে পুরস্কার দিলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। সে কারণে কমিটি চাইলে বিতর্ক এড়িয়ে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কোনো প্রার্থী বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সেক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকটে জর্জরিত সুদানের তৃণমূলভিত্তিক দাতব্য নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধকবলিত শিশুদের সহায়তায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের সমালোচনা করেছেন নোবেলজয়ী ফিলিপিনো সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তার মতে, শুধু পেশিশক্তি বা ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে বিশ্ব পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা ঘিরে একদিকে যেমন ট্রাম্পের মনোনয়ন ও তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে নোবেল কমিটি রাজনৈতিক চাপ থেকে কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি কাকে পুরস্কার দেবে, তা ৯ অক্টোবর ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ