ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সরকার সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

সরকার সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেই বাসস্থান নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করাও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি কেবল একটি ঘর বা বাসস্থানকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, কার্যকর গণপরিবহণ, ভালো সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সরাসরি যুক্ত। সবশেষে এসব সুবিধার সমন্বয়ে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোর জন্য নাগরিকদের এমন নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের নগরায়ণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক শহরে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষ বসবাস করছেন।

এ অবস্থায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহরাঞ্চলে সব শ্রেণির মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে লক্ষ্য নির্ধারণের তুলনায় তা বাস্তবে বাস্তবায়ন করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্যও বাসযোগ্য, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার বলেও জানান তিনি।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

শহরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতেও সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তারেক রহমান। তার মতে, রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাকে সরকার একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছে এবং তা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বর্তমান নগরায়ণ ব্যবস্থায় রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন পরিচালনার পরিবর্তে প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

এ লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাসযোগ্য আবাসন নির্মাণে পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার কাজ চলছে।

বিশ্বের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে একই সঙ্গে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করছে। পরিবর্তিত এই বাস্তবতার মধ্যেও নগরাঞ্চলের সংকট মোকাবিলা এবং বিশেষ করে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট শুধু সরকারি উদ্যোগে সমাধান করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ এবং নির্ধারিত অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার পর্যায়ক্রমে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ আর শুধু একটি লক্ষ্য বা পরিকল্পনা থাকবে না; বরং তা দেশের নাগরিকদের জন্য বাস্তবতায় পরিণত হবে।

ট্যাগ : তারেক রহমান বিশ্ব বসতি দিবস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


সরকার সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেই বাসস্থান নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করাও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি কেবল একটি ঘর বা বাসস্থানকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, কার্যকর গণপরিবহণ, ভালো সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সরাসরি যুক্ত। সবশেষে এসব সুবিধার সমন্বয়ে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোর জন্য নাগরিকদের এমন নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের নগরায়ণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক শহরে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষ বসবাস করছেন।

এ অবস্থায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহরাঞ্চলে সব শ্রেণির মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে লক্ষ্য নির্ধারণের তুলনায় তা বাস্তবে বাস্তবায়ন করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্যও বাসযোগ্য, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার বলেও জানান তিনি।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

শহরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতেও সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তারেক রহমান। তার মতে, রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাকে সরকার একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছে এবং তা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বর্তমান নগরায়ণ ব্যবস্থায় রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন পরিচালনার পরিবর্তে প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

এ লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাসযোগ্য আবাসন নির্মাণে পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার কাজ চলছে।

বিশ্বের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে একই সঙ্গে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করছে। পরিবর্তিত এই বাস্তবতার মধ্যেও নগরাঞ্চলের সংকট মোকাবিলা এবং বিশেষ করে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট শুধু সরকারি উদ্যোগে সমাধান করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ এবং নির্ধারিত অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার পর্যায়ক্রমে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ আর শুধু একটি লক্ষ্য বা পরিকল্পনা থাকবে না; বরং তা দেশের নাগরিকদের জন্য বাস্তবতায় পরিণত হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ