ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটনে কৌশলগত আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেলর গ্রিন। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং মার্কিন সরকারও এমন কোনো আলোচনা চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। রাশিয়া টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে।রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রিন দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি কৌশলগত বৈঠকে আলোচনা করা হচ্ছে। তবে কারা এসব আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।[BANGVIEWS-POST:3839]গ্রিন আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং ইরান যুদ্ধ আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।তবে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে এমন কোনো আলোচনা চলছে বলে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি। বরং এর আগে মার্কিন প্রশাসন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নানা জল্পনার মধ্যে এমন পদক্ষেপ বিবেচনায় না থাকার কথা জানিয়েছিল।ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে আসছেন গ্রিন। একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই সাবেক কংগ্রেসওম্যান বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছেন। চলতি বছরও তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার।[BANGVIEWS-POST:3838]ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনায় বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে।এ অবস্থায় মার্জরি টেলর গ্রিনের পারমাণবিক হামলা নিয়ে দাবি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করলেও, এখন পর্যন্ত এটি তাঁর ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই রয়েছে। সরকারি কোনো সূত্র বা স্বাধীন প্রমাণে এমন পরিকল্পনার সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।সূত্র: আরটি