ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসের ভেতরে চলন্ত শাটলে বসা এক ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোটরসাইকেলে করে এসে এক ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে দুল ছিনিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিট থেকে ৭টা ২৬ মিনিটের মধ্যে মুক্তি ও গণতান্ত্রিক তোরণ গেট থেকে শাটলে করে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।
শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের কাছে পৌঁছালে সাদা জামা পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে শাটলের পাশে আসেন। এরপর আচমকা তার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল নিয়ে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে চলে যান ওই ব্যক্তি।
ঘটনার বর্ণনায় সানজিদা বলেন, শাটলটি হল মাঠের গেটের সামনে যাওয়ার সময় বাইকে থাকা ওই ব্যক্তি হঠাৎ তার কান থেকে দুল টেনে নেন। এতে কান ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে চলাফেরা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন সানজিদা। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াতের সময়ও এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে তার মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। এমনকি হলের বাইরে বের হতেও এখন আতঙ্ক বোধ করছেন তিনি।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে এখনো তার সরাসরি কথা হয়নি। তবে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে উপাচার্যের অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়ে চলাচলকারী এই পরিবহনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হলসংলগ্ন সড়ক ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ