শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন থেকে ডাকসু নেতৃবৃন্দ ওয়াকআউট করেছেন বলে জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে এ কথা জানান তিনি।
ফেসবুকে ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওয়াকআউটের ভিডিও শেয়ার করে দেওয়া ক্যাপশনে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, হল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম পরিবর্তন না করায় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সিন্ডিকেটে পাস হওয়া একটি প্রস্তাব পুনরায় পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়ে বিষয়টি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফেলেছে। তার ভাষায়, প্রশাসন ‘ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ও তাদের আইকনদের প্রতি আপোষকামিতা’ দেখিয়েছে। সাদিক কায়েমের দাবি, এখন শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হলের নাম পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেট অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন ডাকসু ভিপি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘স্টুডেন্টরা ট্রমাটাইজড। তারা যখন এ নামে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে তাদেরকে ট্যাগিং করা হচ্ছে। তাদের ভিক্টিমাইজ করা হচ্ছে। যে শিক্ষার্থীরা বিজয় দিবসে ফুল দিতে স্মৃতিসৌধে শেখ মুজিবের ব্যানার নিয়ে গেল, সেই শিক্ষার্থীদের ব্যানার যখন ছিনিয়ে নেওয়া হল, তাদের পরিচয় কী হবে, এর জবাব কি দিব?’
তিনি বলেন, আশপাশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া মতামত নিয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যাওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসন এসএমটির সভা করে বিষয়টি অনুমোদন করে বলে তিনি দাবি করেন। এরপর সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি তোলার কথা বলা হয় এবং সিন্ডিকেটের পর সিনেট সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘আজকে যখন সিনেটে আসলাম এখন আবার বলা হচ্ছে সিন্ডিকেট।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে যদি শিক্ষার্থীদের পরিচয়ের কারণে বিক্ষিপ্ত করার সুযোগ করে দেওয়া হয়, সারা বাংলাদেশে বর্তমান সরকার আসার পরেও সংসদে বিল হয়েছে। প্রায় ১৮০টি অবকাঠামোর নাম পরিবর্তন হয়েছে। ফ্যাসিবাদের আইকনদের নামে যে নাম গুলো ছিল।’
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থীদের মতামতগুলোকে বারবার অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, এবং আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়ার পরেও এদিনেও যেহেতু শিক্ষার্থীদের মতামতকে অগ্রাহ্য করছে সুতরাং আমরা ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা এ প্রোগ্রাম থেকে ওয়াকআউট করলাম। ধন্যবাদ।’
ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাদিক কায়েম মূলত শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করা এবং হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
মন্তব্যসমূহ