ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন লার্ভা জরিপ শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
সোমবার সকালে গুলিস্তানের নগর ভবনে জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ সিটির ১০টি অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব, সম্ভাব্য প্রজননস্থল ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা হবে।
জরিপ পরিচালনায় ডিএসসিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী কাজ করছেন। তথ্য সংগ্রহে ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ শেষে সেগুলো বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ব্রেটু ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূচক ১০ থেকে ১৯-এর মধ্যে থাকলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে থাকলে সাধারণ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
জরিপের ফলাফলে যেসব এলাকা ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে শনাক্ত হবে, সেখানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা প্রয়োজন। এই জরিপ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বর্ষাপূর্ব জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানি এডিস মশার গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল হিসেবে পাওয়া গেছে। এ কারণে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই জরিপের ফল অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে ডিএসসিসি।
জরিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ