বর্তমান সরকার ‘বেহেশতের গ্যারান্টি’ না দিলেও উন্নয়নের গ্যারান্টি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ত্রিমোহনী খাল ব্রিজ এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জিরানি খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরির চলমান প্রকল্পের অগ্রগতিও পরিদর্শন করেন তিনি।
রাজধানীর উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চান। দেশ বা রাজধানীকে রাতারাতি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে নগরের সমস্যা সমাধানে কাজ করার কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে রাজধানীর সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মীর শাহে আলম জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি মিলিয়ে মোট ৫৫টি খাল ঘিরে কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী খালের দুই পাশে গাইডওয়াল, রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি পানিপ্রবাহ সচল এবং পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকার পয়োবর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। নির্ধারিত শোধনাগারে বর্জ্য পরিশোধনের পর পরিষ্কার পানি নদীতে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি কাজ করছে।
জিরানি খালসহ মান্ডা, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরিতে প্রায় ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসি বহন করছে।
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সীমানা নির্ধারণ, স্লোপ প্রটেকশন, রিটেইনিং ওয়াল, সুরক্ষা বেষ্টনী ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। খালপাড়ে সবুজায়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খাল ও নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর হাঁটা ও বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্তব্যসমূহ