ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট
ফাইল ছবি
ফলো করুন

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া বক্তব্য এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা রিট আবেদনটি দায়ের করেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা রিটটির নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬।

রিটে দুদকের গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন বিষয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে সমগুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়। দুদকের ওই সময়কার ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হয়েছিল।

তবে রিটকারীর দাবি, দুদক আইনের অধীনে কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ অনুসন্ধানের ফল হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে; অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার আইনি এখতিয়ার নেই।

আবেদনে আরও বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আগের বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রিটকারীর।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক আবারও ব্রিফিং করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারসহ আরও কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দুদকের ওই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

রিটে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের যে বিষয়টি অভিযোগে এসেছে, সেটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছিল।

১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির অভিযোগের বিষয়েও রিটে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন, আর ওই পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। ফলে ওই প্রক্রিয়ায় তার সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরির উদ্দেশ্যে এসব ব্রিফিং করা হয়েছে। এটি রিটকারীর অভিযোগ; এ বিষয়ে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

ট্যাগ : এনসিপি হাইকোর্ট দুদক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া বক্তব্য এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা রিট আবেদনটি দায়ের করেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা রিটটির নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬।

রিটে দুদকের গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন বিষয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে সমগুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়। দুদকের ওই সময়কার ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হয়েছিল।

তবে রিটকারীর দাবি, দুদক আইনের অধীনে কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ অনুসন্ধানের ফল হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে; অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার আইনি এখতিয়ার নেই।

আবেদনে আরও বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আগের বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রিটকারীর।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক আবারও ব্রিফিং করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারসহ আরও কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দুদকের ওই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

রিটে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের যে বিষয়টি অভিযোগে এসেছে, সেটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছিল।

১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির অভিযোগের বিষয়েও রিটে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন, আর ওই পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। ফলে ওই প্রক্রিয়ায় তার সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরির উদ্দেশ্যে এসব ব্রিফিং করা হয়েছে। এটি রিটকারীর অভিযোগ; এ বিষয়ে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ