ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এডিবি- বিশ্বব্যাংক ঋণ দিলেও চীন-এআইআইবি থেকে অর্থছাড় নেই

এডিবি- বিশ্বব্যাংক ঋণ দিলেও চীন-এআইআইবি থেকে অর্থছাড় নেই
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে। ফলে এই সময়ে নতুন ঋণ পাওয়ার তুলনায় পুরোনো ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে।

রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার অর্থছাড় পেয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ঋণ হিসেবে পাওয়া অর্থের চেয়ে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পরিশোধ করা ঋণের মধ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার ছিল আসল এবং ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার ছিল সুদ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অর্থছাড় কমে যাওয়া এবং ঋণ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারের সময়ে বিদেশি ঋণের অর্থে অপরিকল্পিতভাবে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর বাস্তব প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর ফলে এসব ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন নির্বাচিত সরকার না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহী ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণ দেওয়ার বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এখনো কম রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আটটি দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি এ সময়ে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার অর্থছাড় করেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক অর্থছাড় করেছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপান ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার অর্থছাড় করেছে।

এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থছাড় হয়েছে। তবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও চীন থেকে এ সময়ে কোনো অর্থছাড় হয়নি।

অন্যদিকে বেশির ভাগ উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে অর্থছাড় পাওয়া গেলেও বড় সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে শুধু জাপানের কাছ থেকে। চীন, রাশিয়া ও বিশ্বব্যাংকের মতো বড় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নতুন ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ : বৈদেশিক ঋণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এডিবি- বিশ্বব্যাংক ঋণ দিলেও চীন-এআইআইবি থেকে অর্থছাড় নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে। ফলে এই সময়ে নতুন ঋণ পাওয়ার তুলনায় পুরোনো ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে।

রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার অর্থছাড় পেয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ঋণ হিসেবে পাওয়া অর্থের চেয়ে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পরিশোধ করা ঋণের মধ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার ছিল আসল এবং ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার ছিল সুদ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অর্থছাড় কমে যাওয়া এবং ঋণ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারের সময়ে বিদেশি ঋণের অর্থে অপরিকল্পিতভাবে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর বাস্তব প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর ফলে এসব ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন নির্বাচিত সরকার না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহী ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণ দেওয়ার বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এখনো কম রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আটটি দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি এ সময়ে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার অর্থছাড় করেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক অর্থছাড় করেছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপান ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার অর্থছাড় করেছে।

এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থছাড় হয়েছে। তবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও চীন থেকে এ সময়ে কোনো অর্থছাড় হয়নি।

অন্যদিকে বেশির ভাগ উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে অর্থছাড় পাওয়া গেলেও বড় সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে শুধু জাপানের কাছ থেকে। চীন, রাশিয়া ও বিশ্বব্যাংকের মতো বড় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নতুন ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ