ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি ও প্রত্যাহার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শুধু বদলির মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকছে না। অভিযোগ বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন থানার ওসি বদলি এবং বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, শুধু বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, বদলি প্রশাসনিক কারণে হয়, বদলি কোনো বিষয়ে কর্তব্য অবহেলার কারণে হয় অথবা কোনো কিছুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে জন্য হয়। কিন্তু বদলিটা লাস্ট নয়, বদলির পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানের ঘটনাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনারাও লক্ষ্য করেছেন একজন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একটি ঘটনায় যেটা ভাইরাল হয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি, তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে, ফরেনসিক হয়েছে, দুই একটি সংস্থা সে তদন্তটা করেছে। মামলা দায়ের হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং হচ্ছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাথে সাথে ক্রিমিনাল অফেন্সের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, মামলা দায়ের হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত হয়েছে।’
এরপর সাংবাদিকরা সাবেক ওই ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসান। অডিওতে পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মকর্তা পদায়ন ও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একজনকে কথা বলতে শোনা যায়।
ওই অডিওতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন ও প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করতে শোনা যায়। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং তাকে ঠেকাতে পুলিশের সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য ছিল অডিওটিতে।
তবে রাকিবুল হাসান দাবি করেছিলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তার নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটি তৈরি করা হয়েছে।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মন্তব্যসমূহ