প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের শেষ ম্যাচটাও ব্যাট হাতে রাঙালেন ডিন এলগার। প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে সেঞ্চুরি করে স্মরণীয়ভাবে মাঠ ছাড়ার পথে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক টেস্ট অধিনায়ক।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন ওয়ানে শনিবার গ্ল্যামরগনের বিপক্ষে এসেক্সের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ বলে ১০৮ রান করেন ৩৯ বছর বয়সী এলগার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ৫৭তম শতক।
বিদায়ী ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না এলগারের। কার্ডিফে প্রথমে ব্যাট করে গ্ল্যামরগন ৫০৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে এসেক্সের প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১২৯ রানে। এলগারও ব্যর্থ হন, আউট হন মাত্র ২ রান করে। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় ফলো-অনে পড়ে এসেক্স।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য দেখা যায় ভিন্ন এলগারকে। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে খেলেন অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তার সেঞ্চুরির সুবাদে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে এসেক্স ৫ উইকেটে ৩৩১ রান তোলে এবং ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে টিকে থাকে।
২০০৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেছিলেন এলগার। ২৮৪ ম্যাচে ১৯ হাজার ৩৬২ রান নিয়ে শেষ হচ্ছে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার। এই সংস্করণে তার নামের পাশে রয়েছে ৫৭টি সেঞ্চুরি ও ৭৭টি ফিফটি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটান্স, ঈগলস ও ফ্রি স্টেটের হয়ে খেলেছেন তিনি। ইংলিশ কাউন্টিতে এসেক্স ছাড়াও সারে ও সমারসেটের জার্সিতে দেখা গেছে তাকে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দীর্ঘ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন এলগার। ৮৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৩৭.৯২ গড়ে করেছেন ৫ হাজার ৩৪৭ রান। টেস্টে তার সেঞ্চুরি ১৪টি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৮ টেস্টে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর এসেক্সের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছিলেন এলগার। তবে গত মাসে তিনি জানান, চলতি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শেষেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবেন।
চলতি মৌসুমেও এসেক্সের হয়ে ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় এলগার বলেছিলেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সঙ্গী ও সন্তানদের পাশে থাকার জন্যই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে লড়াকু ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এলগার শেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচেও রেখে গেলেন সেই ছাপ। বিদায়ের মঞ্চে সেঞ্চুরি দিয়েই শেষ অধ্যায়টা স্মরণীয় করে রাখলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক।
মন্তব্যসমূহ