চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিকভাবে ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক কমানোর একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় আট দফা সমঝোতার ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুই দেশ একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠনের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনার ফলাফল কার্যকর রাখার বিষয়েও একমত হয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকা বাণিজ্যবিরতি আরও দুই মাস বাড়ানোর পর নতুন এই সমঝোতা হলো। বুধবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আরও আলোচনা চালানোর সুযোগ তৈরি করতে বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়। বড় কোনো প্রকাশ্য অগ্রগতির বদলে বৈঠকে দুই নেতার ব্যক্তিগত কূটনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি এরই মধ্যে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সফর চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর ফলে বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।’
এআই নিয়ে দুই দেশ প্রযুক্তিটির ঝুঁকি ও সুফল নিয়ে সংলাপ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। আগামী নভেম্বরেই এ বিষয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি এআই-সংক্রান্ত কোনো দুর্ঘটনা বা ঘটনার ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য একটি পৃথক চ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহার করায় বেইজিং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই দেশের আরও বেশি যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) নেতাদের বৈঠক ও জি-২০ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে একমত হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের নেতারা একে অপরের দেশে আয়োজিত এসব সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের ওপর কোনো ধরনের ট্রানজিট টোল আরোপ করতে পারবে না বলেও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্যসমূহ