রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম। এতে উড়ন্ত মশা নিধনের পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, মশার উৎপত্তিস্থল নির্মূল করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেসব জায়গায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস বলেন, আগে থেকেই ওয়ার্ডভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ফলে কোন এলাকাগুলোতে এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি বেশি, তা আরও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
তিনি জানান, ডিএনসিসির বিশেষ কর্মসূচিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘১০০ তে ১০০’। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে কাজে যুক্ত করা হবে। তারা ১০০টি হটস্পটে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করবেন। জাতীয় পর্যায়ের ৯০ দিনের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ডিএনসিসি এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, আবাসিক সোসাইটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন, অফিস ও আদালতে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন।
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, নগরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তার স্বাক্ষর করা সচেতনতামূলক চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, শুধু রাস্তা বা খোলা জায়গায় মশক নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে বাসাবাড়ির ভেতরে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা থাকলে সেখান থেকেই নতুন মশার বিস্তার ঘটতে পারে।
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাসার বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যাপক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এতে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিটি বাড়ি ও বাড়ির আশপাশে যাতে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশক নিধন কর্মীদের সহযোগিতা করা জরুরি।
মন্তব্যসমূহ