ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা। আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা ধরে রাখার বিষয়টিও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে মূলত দুটি কারণে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তাদের ভূখণ্ড, জ্বালানি স্থাপনা ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দুর্বল হয়ে পড়ুক, সেটিও তারা চায় না।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলো ঘিরে পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব বৈঠকে হুতি ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারে।
বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য এই দুই সামুদ্রিক পথ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহন নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, সংঘাত আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সরাসরি সামরিক সহায়তা দেবে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-জিসিসি বৈঠক থেকে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে কি না তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে ইয়েমেন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগও তীব্র হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
অন্যদিকে ইরান ইস্যুতেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সামনে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের বৈঠকটি শুধু ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে, সে দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলোচনায় যুদ্ধের বিস্তার ঠেকানো, হুতি তৎপরতা মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সিএনএন