কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার দ্রুত বিচার এবং চার দফা দাবি বাস্তবায়নে মৌন মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। কালো ব্যাজ ধারণ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি আইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে গোলচত্বরে ফিরে কর্মসূচি শেষ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
মিছিল শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেছেন। শুরু থেকে উত্থাপিত চার দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শেষ ও ফাঁসি কার্যকর করা। এটি আন্দোলনকারীদের দাবি; আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
দ্বিতীয় দাবিতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায় স্বীকার করে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় দাবি হলো, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া। চতুর্থ দাবিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক সাড়াদানকারী ইউনিট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমের জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে শোকের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
অপ্রতিম শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাইয়ের সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে তিনজন রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই অভিযুক্তদের দায় নির্ধারিত হবে।